Dhoni এর সংঘর্ষ ভরা জীবন এর কাহিনী | 2024

Dhoni
Ms Dhoni

ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পূর্ব অধিনায়ক Dhoni, মহেন্দ্র সিং Dhoni যাকে আমরা সবাই ভারতের সবথেকে সফল অধিনায়ক হিসাবে জানি। কিন্তু এই সফল অধিনায়ক হওয়ার পথটি মোটেও সোজা ছিল না। একটি সময় এই সফল অধিনায়কের জীবনেও চলেছে বহু সংঘর্ষ এবং নানা ধরনের বাঁধাজনিত ঘটনা। আসুন আজকের ব্লগ এ আমরা জেনে নি কিভাবে সেই রাঁচির ছোটো Dhoni আজ আমাদের সকলের প্রিয় ক্যাপ্টেন কুল নামে পরিচিত মহেন্দ্র সিং Dhoni হয়ে উঠলেন।

ছোটবেলার Dhoni :

Dhoni ৭ জুলাই ১৯৮১ সালে ভারতের বিহার জেলার রাঁচি শহরে এ একটি অতি সাধারন পরিবারে বাবা পান সিং এবং মাতা দেবকি এর ছোটো সন্তান হিসাবে জন্মগ্রহন করেন। বয়স তখন ৫ জহরবিদ্যামন্দিরে প্রাথমিক শিক্ষার সাথেই খেলাধূলার ও হাতেখড়ি শুরু হয় ছোটো Dhoni এর। খেলাধুলা বলতে তিনি প্রথমত একজন পারদর্শী ফুটবল গোলকিপার হতে চেয়েছিলেন। ফুটবল খেলায় ছোটো ধোনির গোলকিপিং এর পারদর্শিতা দেখে স্কুলের ক্রিকেট টিমের কোচ কেশব ব্যানার্জী তাকে ক্রিকেট এর উইকেট কিপার হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। সেইসময় থেকেই ক্রিকেট খেলার প্রশিক্ষন নিতে শুরু করেন ছোটো Dhoni এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ক্রিকেট খেলায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। এই ভাবেই চলতে থাকে তার স্কুল জীবন তিনি যেমন খেলাধূলায় পারদর্শী হতে থাকেন ঠিক তেমনই পড়াশোনার দিকে তেমন মন না দেওয়ায় তাঁর বাবা মা প্রচুর চিন্তায় পড়ে জান আর পাঁচটা সাধারন পরিবারের মতোই Dhoni এর মা বাবার ও সপ্ন ছিলো ছেলে ভালো পড়াশোনা করে কোনো ভালো চাকরি করে জীবনে সফল হোক। কিন্তু Dhoni এর মনে বাসা বেঁধে নিয়েছিলো একজন সফল ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন। ধোনির ক্রিকেট এর প্রতি এতো আবেগ দেখে তার মা এবং দিদি তাকে উৎসাহিত করলেও ধোনির বাবার মনে হয়েছিলো ক্রিকেট খেলে ভালো ভাবে জীবন যাপন করা যায়না। অন্যথা বাবার কথামতো ক্রিকেট কে বিদায় জানিয়ে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের, খড়গপুরে টিকিট কালেক্টর এর চাকরি তে যোগদান করতে হয় ধোনিকে। ক্রিকেট কে বিদায় জানালেও নিজের মনকে কিছুতেই ক্রিকেট থেকে দূরে রাখতে পারছিলেন না । ৩ বছর টিকিট কালেক্টর এর চাকরি করেও যখন তিনি নিজের জীবনের মানে বুঝতে পারছিলেন না ঠিক তখনই জীবনের সবথেকে বড়ো সিদ্ধান্ত নেন Dhoni এবং সেই মূহুর্তেই নিজের চাকরি ছেড়ে রওনা দেন একজন ভারতীয় ক্রিকেট খেলোয়ার হওয়ার পথে।

Cricket এর জীবন :

এইভাবেই শুরু হয় ভারতের ইতিহাসের সবথেকে সফল অধিনায়কের জীবনের নতুন পর্ব। ২০০৪ সালে রঞ্জি ট্রফি থেকে ভারতীয় দলে জায়গা করে নিয়ে নতুন পথে পথ চলা শুরু করে দেন Dhoni। ২০০৪ সালে প্রথম ভারতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এর স্তরে খেলার সুযোগ পান Dhoni। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রান আউটের জন্য অনেকেই আস্থা হারিয়ে ফেলেন ধোনির উপর থেকে। পরবর্তী সিরিজে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম উইকেট কিপার এবং ব্যাটসম্যান হিসাবে শতক করেন তিনি তারপর থেকে আর ঘুরে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সহ অধিনায়ক হিসাবে পথ চরা শুরু করেন এবং কিছু সময়ের মধ্যেই জাতীয় টিমের ক্যাপ্টেন এর স্বীকৃতি পান। সেই বছরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টি টয়েন্টি ওয়াল্ড কাপ এ জয়লাভ করে ভারত এবং সর্বপ্রথম টি টোয়েন্টি ওয়াল্ড চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খেতাব ও চলে আসে ভারতের পক্ষে। ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নাগপুরে চতুর্থ ও চূড়ান্ত ম্যাচে অনিল কুম্বলের অবসরকালে ধোনি অধিনায়ক হিসেবে ভারতীয় টেস্ট দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার নেতৃত্বেই দীর্ঘ ২০ বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে সক্ষম হয়েছে।

আরও পড়ুন : Case study of Mary Bell বাংলায় | 2024

Records :

এরপর একে একে আইসিসির সমস্ত ফরম্যাটে যথা ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয় (২০১১), টেস্টে র‍্যার্ঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান দখল (২০০৯) ও চ্যাম্পিয়ান্স ট্রফির (২০১৩) জয়লাভ করার মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছেন বিশ্বের এক অনন্য সাফল্যের অধিকারী। তিনিই বিশ্বের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে আইসিসির সব টুর্নামেন্ট জয় করার কৃতিত্ব রয়েছে। এছাড়া দেশে-বিদেশে সাফল্যের নিরিখে ভারতীয় ক্রিকেটে এক বিরল রেকর্ড স্থাপনের মাধ্যমে হয়ে উঠেছেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ অধিনায়ক। আইপিএল লিগেও সি এসকে এর তরফ থেকে অধিনায়কত্ব এর দ্বারা দলকে ৫ টি ট্রফি জিতিয়েছেন Dhoni। ২০১০, ২০১১,২০১৮,২০২১,২০২৩ ছিলো সিএসকে এর জন্য সোনার সফর। ২০১৯ সালে ওয়াল্ড কাপ এর সফরে সেমিফাইনালে রান আউট হওয়ার পর ধোনিকে আর দেখা যায়নি ভারতের হয়ে খেলতে। এর পরের বছরই ২০২০ তে কোভিড এর সময় সমস্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কে বিদায় জানিয়ে অবসর ঘোষনা করে দেন ধোনি। এখন তাকে শুধুমাত্র আইপিএল এ খেলতেই দেখা যায়। লাখ লাখ ফ্যানস এখনও ধোনির এক মূহুর্তের খেলা দেখার জন্য আইপিএল এর অপেক্ষায় থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here