Halal কেন উত্তরপ্রদেশে ব্যান করা হল? | 2023

Halal

আজকের ব্লগ এ আমরা জানতে চলেছি Halal কেন উত্তরপ্রদেশ এ ব্যান করা হল। ১৮ নভেম্বর ২০২৩ এ যোগি আদিত্যনাথ মুসলিমদের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হালাল সার্টিফাইড সামগ্রী  উত্তরপ্রদেশ এ ব্যান করে দেন। এবং তার কিছু সময় পরে উত্তরপ্রদেশের ফুড পুলিশ অফিসাররা উত্তরপ্রদেশের সমস্ত সপিং মল এবং সাধারন দোকান এ রেড করে সমস্ত হালাল সার্টিফাইড সামগ্রী সিজ করে দেন।

কেন Halal ব্যান করা হল :

এতে উত্তরপ্রদেশের মুসলিম লোকেরা ধর্না দেয়। কিন্তু এতে কোনো কাজ হয়নি তেমন। এবং তার কিছুদিন পরেই ২৫ নভেম্বর ২০২৩ এ তেলেঙ্গানা ভোটের সম্মেলনে এ যোগি আদিত্যনাথ সরাসরি প্রচার করেন যে তেলেঙ্গানা তে যদি বিজেপি জিতে যায় তবে দুটো নতুন বদল আনবেন। প্রথমত মুসলিম কোটা বন্ধ করে Sc, st কোটা নিয়ে আনবেন। দ্বিতীয়ত হায়দ্রাবাদ এর নাম বদলে ভাগ্যনগর রাখবেন। এর আগেও তিনি আলাহাবাদ এর নাম বদলে প্রয়াগরাজ ফৈজাবাদ এর নাম বদলে অযোধ্যা কান্ট করে দিয়েছিলেন। এইগুলি দেখে কি মনে হয় যোগি আদিত্যনাথ কি মুসলম বিরোধি কোনো যোজনা চালু করেছেন? অন্যদিকে যোগি জি হালাল ব্যান করার পরে যে সরাসরি ব্যক্তব্য রাখেন তাতে তিনি বলেন যে এটি মুসলিমদের ভালোর জন্যই। মুসলিম ধর্মের নামে মুসলিম লোকেদের যে শোষন করা হচ্ছিলো সেটা বন্ধ করার জন্যই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। এরপরে সবথেকে বড়ো প্রশ্ন এটিই, যে হালাল সামগ্রী বন্ধ করা হয়েছে এটি কি সত্যিই মুসলিম সমাজের ভালোর জন্যই নাকি এর পিছনে কোনো বিজেপির পলিটিকাল উদ্দেশ্য আছে।

হালাল আসলে কি :

স্বাগতম বন্ধুরা, আজকের ব্লগে আমরা জানতে চলেছি হালাল ব্যান করার পিছনের আসল কারন। প্রথমে আমরা এটা জেনে নি হালাল জিনিস টি আসলে কি। Halal এর ব্যাপারে জানতে গেলে আমাদের আরও একটি ব্যাপারেও জানতে হবে যেটি হলো হারাম। মুসলিম ধর্মে হারাম এর অর্থ হলো যেটি কোনো খারাপ বা অধর্মীয় জিনিস এবং এরই ঠিক বিপরীত হচ্ছে হালাল যেটি এককথায় ধর্মের মধ্যে মান্যতা রাখে সঠিক ভাবে ধর্মকে বজায় ও রাখে। হালাল এককথায় একটি আরবি শব্দ এর অর্থ হচ্ছে পবিত্র, বৈধ, উপকারী ও কল্যান ইত্যাদি।মুসলিম লোকেরা মনে করেন যে খাবারটি Halal নয় হারাম এর পর্যায় পরে।

Halal
Pic credit goes to : Yogi Adityanath’s whatsapp channel

যখন কোনো পশু কে কাটা হয় তখন তার গলার প্রধান শিরা কেটে তার শরীর থেকে সব রক্ত বের করে দেওয়া হয় এটিকেই Halal বলে। এই মামলা শুরু হয় লকনউ এ ৯ জনের উপর Fir এর ভিত্তিতে। এই Fir এ বলা হয়েছে এটি একটি বেনামি ব্যাবসা। এই কোম্পানির মালিক এর দ্বারা আতঙ্কবাদীদের মুদ্রা প্রাচার করার অভিযোগ ও এসেছে। এবং দেশকে বিভক্ত করারও অভিযোগ আছে এদের উপর। এরপরে আমরা জেনে নি হালাল সার্টিফাইড এই ব্যবসা গুলি চলে কিভাবে।

হালাল ব্যবসার শুরু:

এই ব্যবসা গুলি শরু হয় ১৯৭৮ সালে। এর আগে হালাল সার্টিফাইড সামগ্রী কোথাও দেখা যায়নি। ১৯৯৩ সালে হালাল সার্টিফাইড সামগ্রী নানান ধরনের খাবারের বস্তুতেই দেখা গেছে। এই হালাল সামগ্রী বানানোর জন্য একটি সার্টিফিকেট বানানোর প্রয়োজন কোম্পানি এর। এর মান্যতা ১-৩ বছরের মধ্যে থাকে। ১ বছরের জন্য এই Halal সার্টিফিকেট নিতে গেলে ২৫,০০০ টাকা  + ৫০০ টাকা প্রত্যেক কন্টেনার এর সাথে gst ও দিতে হয়। ৩ বছরের জন্য এই সার্টিফিকেট নিতে গেলে ৬০,০০০ টাকা  + ১৫০০ টাকা প্রত্যেক কন্টেনার এর সাথে gst ও দিতে হয়। এই সার্টিফিকেট এর এক্সপাইরি হলে নতুন করে করার জন্য। ১ বছরের জন্য আবার এই সার্টিফিকেট নিতে গেলে ২০,০০০ টাকা  + ৫০০ টাকা প্রত্যেক কন্টেনার এর সাথে gst ও দিতে হয়। এবং ৩ বছরের জন্য আবার এই সার্টিফিকেট নিতে গেলে ৫০,০০০ টাকা  + ১০০০ টাকা প্রত্যেক কন্টেনার এর সাথে gst ও দিতে হয়। এবং এই হালাল সামগ্রী এর লোগো এর খরচা আলাদা ভাবে কোম্পানি কে দিতে হয়। এই লোগোটির জন্য যে জিনিসটি ১০ টাকার হয় এই লোগো লাগিয়ে সেই জিনিস গুলি বাজার এ ২০ টাকায় বিক্রি করে এই কোম্পানি গুলি। চলুন একটি উদাহরণ এর সাহায্যে আপনাদের বোঝাচ্ছি ধরুন একজন মুসলিম লোক বাজারে গেলেন কোনো জিনিস নিতে এবং তিনি দেখলেন একই ধরনের দুটি কোম্পানির সামগ্রী আছে এবং একটি তে হালাল এর লোগো লাগানো এবং অন্যটিতে কোনো লোগো নেই হালাল এর। অবশ্যই সেই মুসলিম ব্যক্তিটি এই হালাল লোগো লাগানো সামগ্রী টি নেবেন যার কারনে অন্য সামগ্রী টির ডিমান্ড কমে যাবে বাজারে। এবং সেই জন্য দোকান অথবা সপিং মল এ সেই ডিমান্ড কমে যাওয়া জিনিস টি আর দোকানদার তুলবেন না। এর জন্যই অন্য কোনো ধর্মের মানুষ ও সেই দোকানটি তে গেলে তাকেও এই Halal সামগ্রী টি কিনতে হবে। এছাড়াও আমরা সরকারকে অজান্তেই না না ধরনের ট্যাক্স দিয়ে থাকি ডাইরেক্ট ট্যাক্স, ভ্যালু আ্যডেড ট্যাক্স, ইনডাইরেক্ট ট্যাক্স, সিকিউরিটি ট্রানজেকসন ট্যাক্স, জিএসটি ইত্যাদি। আপনি এটি যেনে অবাক হবেন যে এই হাল লোগো সেইসব জিনিস এ ও থাকে যেইগুলিতে এর দরকারও নেই যেমন তেল, নুডলস, চাল, ডাল ইত্যাদি দ্রব্যে। এবং শুধু খাবারের সামগ্রী তেই না এই হালাল জিনিস এর লোগো মহিলাদের মেকআপ এর সামগ্রী তেও দেখা গিয়েছে।এছাড়াও জলের বোতলের উপরেও এর লোগো স্টিকার দেখা গিয়েছে। মুসলিম ধর্মে একটি রুলস আছে যে এই Halal করার পদ্ধতি একটি মুসলিম ব্যক্তিই করতে পারবেন শুধু। তাই এই কোম্পানি গুলিতে শুধু মুসলিমদের চাকরি দেওয়া হয় যার কারনে অন্যের ধর্মের মানুষেরা এই কোস্পানি তে চাকরি করতে পারেন না এবং এর জন্যই না না ধর্মে বেশ বিবাদ ও দেখা গিয়েছে।

কেরালার নেতা লারিফ মহম্মদ খান তার বক্তব্যে এটি জানান যে উত্তরপ্রদেশে হালাল নিষিদ্ধ না কিন্তু হালাল এর নামে যে কোম্পানি গুলি মানুষ কে বোকা বানাচ্ছে তাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে শুধু।এবার বন্ধুরা আপনারা বলুন যোগি আদিত্যনাথ এই বেনামি ব্যবসা গুলি বন্ধ করে কি ঠিক করেছেন। আপনাদের মতামত আমাদের কমেন্টে জানান।

এই ব্লগটি ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক এবং শেয়ার করবেন,এবং ব্লগটি কেমন লাগলো সেটা নিয়ে আপনার মতামত শেয়ার করুন আমাদের সাথে Contact us এর মাধ্যমে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here