North Sentinel Island কে কেন মৃত্যুদ্বীপ বলা হয়? | 2023

North Sentinel Island
North Sentinel Island

স্বাগতম, বন্ধুরা আজকের ব্লগ এ আমরা জানতে চলেছি North Sentinel Island কথা। ভারতের সমুদ্র তীরে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর থেকে কিছু দূরেই অবস্থিত এই মৃত্যু দ্বীপ যেটি নর্থ সেন্টিনাল দ্বীপ নামে পরিচিত। এটি মৃত্যু দ্বীপ হওয়ার পূর্বে রয়েছে নানা ধরনের অকল্পনীয় ঘটনা।

North Sentinel Island এর রহস্য :

ঘটনাটি ছিলো সাল ২০১৮ এর একটি আমেরিকা এর নাগরিক “জন আ্যলেন চাউ” জিনি একজন কট্টর ক্রিশ্চান ধর্মে বিশ্বাসি মানুষ ছিলেন। তিনি নিজের পড়াশোনা শেষ করার পরে বিভিন্ন জায়গা বিশ্লেষণ  করার জন্য পৃথিবীর নানা ধরনের দ্বীপে ভ্রমন শুরু করেন সেই ভ্রমনের সূত্রেই তিনি প্রথম পা রাখেন আন্দামান দ্বীপে ২০১৫-২০১৬ এর মধ্যে একটি মিশনারি যাত্রার মাধ্যমে। আন্দামান দ্বীপে গেলেও তিনি তখনও North Sentinel Island এ প্রবেশ করেননি। এই যাত্রা শেষে তিনি নিজের দেশে ফিরে গিয়ে North Sentinel Island নিয়ে নানা ধরনের গবেষনা করতে থাকেন। এবং গবেষনার মাধ্যমে জানতে পারেন যে এই দ্বীপে কিছু মানুষ থাকে যারা আধুনিকতার একদমই উর্ধে। এখনও তারা পশু মেরে তাদের কাচা মাংস খায় এবং কোনোরকম সাধারন রোগেই মৃত্যুবরন করে। এই ঘটনাটি পরে জন চাউ এর মনে খুবই দয়া আসে এই দ্বীপের প্রতি লোকেদের নিয়ে এবং তিনি ভেবেছিলেন এই দ্বীপে সয়তানের বসবাস আছে। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে এই দ্বীপে গিয়ে তিনি ক্রিশ্চান ধর্মের ব্যাপারে দ্বীপের মানুষজন দের সচেতন করবেন এবং তাদের আধুনিকতা শিখাবেন। এই মনোভাব নিয়েই তিনি বেরিয়ে পরেন নর্থ সেন্টিনাল দ্বীপ যাত্রার পথে। ১৪ নভেম্বর রাতে তিনি একটি ডাইরি, বাইবেল, কিছু উপহার, ওষুধ পত্র, এবং ব্যবহারের জন্য ধুনিক জিনিস নিয়ে রওনা দেন।  যেহেতু North Sentinel Island এ যাওয়া নিষিদ্ধ তাই কোনো নৌকাচালকই এই দ্বীপে যেতে রাজি হচ্ছিলেন না। তাই তিনি বেআইনি ভাবে ২৫,০০০ টাকার লোভ দেখিয়ে নৌকাচালক দের রাজি করিয়ে দ্বীপের দিকে যাত্রা শুরু করেন। ১৫ নভেম্বর তিনি প্রথম প্রবেশ করেন North Sentinel Island এর ৫০০ মিটারের মধ্যে। সেইসময়ও নৌকাচালক রা তাকে অবগত করে আর আগে না যাওয়ার জন্য কিন্তু তিনি তাদের কোনো কথা না শুনেই একটি ওয়াটারপ্রুফ বাইবেল নিয়ে নিজেই রওনা দেন। তিনি তারপর দ্বীপের লোকেদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন এবং তাদের কিছু উপহার দেওয়ার ও কথা বলেন কিন্তু দ্বীপের লোকেদের ভাষা তিনি বুঝতে পারেন নি এবং মুহুর্তের মধ্যেই দ্বীপের লোকেরা হামলা করা করা শুরু করে দেন জন এর উপরে কোনো উপায় না পেয়ে তিনি ফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তারপরেই তিনি আবারও চেষ্টা করেন এবং তিনি খেয়াল রাখেন পূর্বে ঠিক কি কি কারনে তার উপর আক্রমন হয়। এবং সেই জিনিস গুলি মাথায় রেখে তিনি এইবার তাদের সামনে ভক্তির গান করেন এবং “হোসা”(একটি সাউথ আফ্রিকান ভাষা) ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করেন। এরপর তিনি তাদের মাছ এবং তার আনা গিফট গুলি North Sentinel Island এর লোকেদের দিতে চেষ্টা করেন ঠিক তখনই একটি দ্বীপের লোক তার দিকে তির দিয়ে আক্রমন করে কিন্তু ভাগ্যক্রমে তিরটি বাইবেলে এসে লাগে যেটি জন এর বুকের কাছে ধরে রাখা ছিলো। এটি দেখে যে আবারও ফিরে যায় আতঙ্কিত হয়ে, কিন্তু। শেষবার নভেম্বর ১৭ তে তিনি একটি নৌকাচালক কে রাজি করিয়ে নিয়ে যান এবং সেই নৌকাচালক কিছুক্ষণ পড়ে দেখেন যে জন এর মৃত দেহ দ্বীপের লোকেরা টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

Srinivasa Ramanujan এর জীবন কাহিনী এবং ভয়ঙ্কর ইতিহাস – 2023 

এইসব তথ্য গুলি জন এর লেখা ডাইরি থেকেই প্রাপ্ত, এই ডাইরিতে আরও কিছু লেখাছিল যেমন – ” লর্ড এই দ্বীপের মানুষ গুলি এর কি এতোটাই দূর্ভাগ্য যে এরা আপনার ব্যাপারে শোনেননি। এছাড়াও লেখাছিল ” লর্ড যদি আমার মৃত্যু ও হয়ে যায় এই দ্বীপে তাহলেও তুমি এদের ক্ষমা করে দিও আমার মৃত্যু এর জন্য”। এই ডাইরি থেকে আরও কিছু বিচলত তথ্য পাওয়া যায় এই দ্বীপের বাসিন্দা দের ব্যাপারে যেমন এদের আকার ৫’৩-৫’৫ এর মধ্যে ছিল, ছোটো চুল, চকচকে কালো গায়ের ত্বক, শরীরের গঠন ভালো ছিল এদের। এইগুলির থেকে সবথেকে বেশি আশ্চর্যজনক জিনিস ছিল যে এই দ্বীপের লোকেদের ভাষা কেউই বুঝতে পারেনা এবং এখনও পর্যন্ত জানতে পারা যায়নি এটি কোন ভাষা সাথেই এরা পশুপাখি মেরে খায় জীবকা নিয়ে এদের কোনো ধারনা নেই এবং এরা পুরো দুনিয়ার থেকে প্রায় কোনো রকম সংযোগে ছিল না তাই আমাদের মতো আধুনিক মানুষদের নিজের শত্রু মনে করে এরা। পরবর্তীতে রিসার্চ করে জানা যায় যে এই দ্বীপের মানুষ গুলি আসলে আফ্রিকান প্রজাতির, এবং এরা নিজেদের মধ্যেই মিলেমিশে থাকতে পছন্দ করে বাইরের কোনো প্রজাতির মানুষ যখনই তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে তখনই উত্তরে হিংস্র ভাবে আক্রমণ করে উঠছেন এরা। ক্লাডিওস পিটলেমি সর্ব প্রথম North Sentinel Island দেখে বিশ্লেষণ করেন যে ” আইল্যান্ড অফ দ্য ক্যানিবালস” এর অর্থ ছিলো নরখাদক দের দ্বীপ। এছাড়াও একটি চিনের পর্যটক “ইজিং” ও এই বিষয়ে একই জিনিস জানিয়েছেন যে এই দ্বীপে থাকা মানুষরা মানুষের মাংস খেয়ে থাকে।

North Sentinel Island
© Flicker

First Contact :

১৮৮০ সালে মারিক ভিদাল পোর্টম্যান নামক এক ব্রিটিশ অফিসার প্রথম এই দ্বীপের মানুষদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে চেষ্টা করেন এর জন্য তিনি আসে পাশের আরো আন্দামান দ্বীপ থেকে কিছু আদিবাসী দের নিয়ে যোগাযোগ করার জন্য এই North Sentinel Island এ যান কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন যে এই দ্বীপের মানুষের ভাষা আশেপাশের কোনো আদিবাসিরাও বুঝতে পারছে না। তিনি এই যাত্রার শেষে একটি বৃদ্ধ দম্পতি এবং চারটি ছোটো বাচ্ছা কে দেখেন এবং তাদের নিজের সাথে নিয়ে আসেন। কিন্তু কিছু কারন বসত পোর্টে যেতেই বৃদ্ধ দম্পতি এর মৃত্যু হয়ে যায় কিছুদিন পরেই, এটি দেখে ব্রিটিশ অফিসারটি ঘাবড়ে গিয়ে বাচ্ছা গুলিকে দ্বীপে ফিরিয়ে দিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন এবং সাথে তাদের কিছু উপহারও দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৬৭ সালে দ্বিতীয় বার একজন ভারতীয় নিতত্ববিদ তিলোকনাথ পন্ডিত, ২০ জন লোককে নিয়ে আবারও এই North Sentinel Island এ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই ২০ জনের মধ্যে ছিলেন কিছু বিঞ্জানী, গভর্নর, নেভির লোক। দ্বীপে গিয়ে আদিবাসীদের পায়ের ছাপ ফলো করে ১ কিলোমিটার আগে পর্যন্ত যান তারা কিন্তু কোনো আদিবাসীদের না দেখতে পেয়ে ফিরে যান তারা এই দ্বীপ থেকে, এবং যাওয়ার আগে কিছু উপহার রেখে দিয়ে দিয়ে যান এই আদিবাসীদের জন্য। ১৯৭৪ সালে একটি সিনেমা বানানোর জন্য পরিচালক এবং তার দল মিলে এই দ্বীপে যান এবং সাথে ছিলেন তিলকনাথ পন্ডিত এবং কিছু ভারতীয় সৈনিক এইবার ও কিছু উপহার এবং একটি জ্যান্ত শুয়োর নিয়ে যাওয়া হয় তাদের জন্য কিন্তু আচমকাই পরিচালককে তীর মেরে দেয় আদিবাসীরা এবং শুয়োর টিকেও মেরে দিয়ে বালির মধ্যে পুতে দেয় আদিবাসীরা। এরপর বহুবছর পরে ১৯৯১ সালে প্রথম বন্ধুত্বপূর্ণ ইশারা পাওয়া যায় এই দ্বীপের মানুষদের থেকে। সেইবছরই জানুয়ারি মাসে একজন নৃতত্ববিদ মধুমালা চট্টোপাধ্যায় তার একটি ছোটো টিম নিয়ে এই দ্বীপে যান এবং দ্বীপের মানুষদের নারকেল এবং আরও উপহার দেন।  আশ্চর্যজনক ভাবে North Sentinel Island এর মানুষরা এটি গ্রহন করেন এবং এইবার তারা হিংস্রক ভাব না দেখিয়ে বন্ধু এর মতো আচরন করে। এরপর ঠিক তার পরের দিনই আবার একই টিম দ্বীপে আসে এবং সেইসময় দ্বীপের একজন মানুষ তাদের দিকে তীর ধনুক নিষানা করে ছিলো কিন্তু দ্বীপের একজন মহিলা তাকে মানা করায় সে তার তীর ধনুকটি বালির মধ্যে চাপা দিয়ে দেন। এবং এটিই প্রথম ছিলো যখন কোনো ভারতীয় আসলেই এই দ্বীপে পা রাখেন এবং তাদের হাতে নারকেল ধরিয়ে দেন নিজের হাত দিয়ে।

Last Contact :

এটিই শেষ বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ছিলো এই North Sentinel Island এর মানুষদের সাথে এরপর ১৯৯১ সালের পরে যতবারই চেষ্টা করা হয় তাদের আবারও হিংস্রতা রূপ এর বহিপ্রকাশ হয়। এরপর ২০০৬ সালে দুজন জেলে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে এই দ্বীপের কাছে চলে যায়। এবং দুজনের উপরেই আক্রমন করে মেরে দেন দ্বীপের লোকেরা। এই ঘটনাটির পর সরকার থেকে এই দ্বীপের ৫ কিলোমিটার এর মধ্যে যাওয়া নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ২০১৮ তে জন আ্যলেন চাউ এর ঘটনাটি ঘটে যেটি আমরা ভিডিও এর প্রথমে আলোচনা করেছি এবং তার পর থেকে এইরকম কোনো ঘটনা দেখা যায়নি এই আইল্যান্ড কে নিয়ে এবং এই আইল্যান্ডের লোকেদের কে তাদের নিজের মতো করে থাকতে দেওয়া হয়।

এই ব্লগটি ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক এবং শেয়ার করবেন,এবং ব্লগটি কেমন লাগলো সেটা নিয়ে আপনার মতামত শেয়ার করুন আমাদের সাথে Contact us এর মাধ্যমে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here