Srinivasa Ramanujan এর জীবন কাহিনী এবং ভয়ঙ্কর ইতিহাস – 2023

Srinivasa Ramanujan
Srinivasa Ramanujan

বয়স তখন মাত্র ৩০ বছর ১৯১৮ সালে Srinivasa Ramanujan দ্বিতীয় ভারতীয় হিসাবে ইংল্যান্ডের রয়্যাল সোসাইটি অফ ম্যাথামেটিক্স এর মেম্বার হিসাবে যোগদান করেন। এটি সেই সংস্থা যেটি কাকে নোবেল প্রাইজ প্রদান করা হবে তা ঠিক করে থাকে। Srinivasa Ramanujan হলেন সেই ব্যক্তি যার জন্মদিন আমরা ম্যাথামেটিক্স ডে হিসাবে আমরা পালন করে থাকি। এবং এনাকেই আমরা ম্যাথামেটিক্স এর জনকও বলে থাকি। আসুন আজকের ব্লগ এ আমরা জেনে নি একজন সারাধন পরিবারের ছেলের গনিত বিশেষজ্ঞ হওয়ার সফর।

Srinivasa Ramanujan Life Story :

১৮৮৭ সালে ২২ এ ডিসেম্বর ব্রিটিশ ভারতে মাদ্রাজ প্রদেশর তাঙ্গর জেলার ইরেভদ শহরের এক দরিদ্র ব্রাম্ভন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কে শ্রিনিবাস ইয়েঙ্গার ছিলেন শহরের একটি কাপড় দোকানের হিসাবরক্ষক। এবং তার মা কোমালাটাম্মাল একজন গৃহিণী ছিলেন সাথেই একটি স্থানীয় মন্দিরে গান ও গাইতেন। কিন্তু তিনি একজন তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন মহিলা ছিলেন।রামানুজনের বয়স যখন পাঁচ বছর ছিল তখন তাঁকে পাড়ার একটি পাঠশালায় ভর্তি করানো হয়। দু’বছর সেখানে পড়াশুনা করার পর যখন তাঁর বয়স সাত বছর হয় তখন Srinivasa Ramanujan কে ভর্তি করানো হয় কুম্ভকোনাম শহরের টাউন হাই স্কুলে। রামানুজন সাধারণত কথা বেশি বলতেন না এবং অনেকেরই মনে হত যেন তিনি কিছুটা ধ্যানমগ্ন হয়ে আছেন। একটি সময় স্কুলের টাইম টেবিল নিয়ে সমস্ত শিক্ষক যখন চিন্তার মধ্যে ছিলেন এবং দুদিন চেষ্টার পরেও টাইম টেবিল ঠিক করতে পারছিলেন না তখন Srinivasa Ramanujan কে ডাকা হয় টাইম টেবিল ঠিক করার জন্য এবং আশ্চর্যজনক ভাবে কিছু মিনিটের মধ্যেই রামানুজান সমস্ত স্কুলের শিক্ষক দের টাইম টেবিল ঠিক করে দেখিয়ে দেন। এবং Srinivasa Ramanujan এর এই ধরনের অসাধারণ প্রতিভা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং এই প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এমনকি π(পাই) ও √২(স্কোয়ার রুট অফ টু) এর মান যে কোনও সংখ্যক দশমিক স্থান অবধি বলে দিতে পারতেন তিনি।

Srinivasa Ramanujan
Srinivasa Ramanujan

Popularity :

রামানুজন এক বন্ধু তাকে জি. এস. কার-এর লেখা ‘Synopsis of elementary results in Pure and Applied Mathematics’ বইটি পড়ার জন্য দেন এবং সেটা পড়ার পরই মূলত তাঁর গাণিতিক প্রতিভার বিকাশ ঘটতে শুরু হয়। রামানুজন নিজে থেকেই বইয়ে দেওয়া গাণিতিক সূত্রগুলির সত্যতা পরীক্ষা করতে থাকেন। এগুলো যেন তাঁর কাছে মৌলিক গবেষণার মত। রামানুজন ১৬ বছর বয়সে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ভালো ফল করার পরিপ্রেক্ষিতে জুনিয়র শুভ্রমনীয়ম বৃত্তি লাভ করেছিলেন। এই বৃত্তির সাহায্যে তিনি কুম্ভকোনাম সরকারি কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু কলেজে গণিতের দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে গিয়ে অন্য বিষয়ে পিছিয়ে পড়েন তিনি, ফলে পরীক্ষায় ইংরেজিতে অকৃতকার্য হন, এর প্রভাব স্বরূপ তাঁর বৃত্তি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তিনি কুম্ভকোনাম ছেড়ে প্রথমে বিশাখাপত্তনম আসেন এবং পরে মাদ্রাজ চলে যান। পরবর্তী সময়ে, ১৯০৬ সালের ডিসেম্বরে রামানুজন ফার্স্ট এক্সামিনেশন ইন আর্টস পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে অকৃতকার্য হন। সেই থেকে তিনি আর এই পরীক্ষাটি দেননি। পরে কিছু বছর ধরে Srinivasa Ramanujan নিজের মত করে গণিত বিষয়ে বিভিন্ন গবেষণা চালিয়ে যান। তিনি এতোটাই গনিত এর প্রতি মগ্ন হয়ে পড়েছিলেন যে তিনি তার কর্মজীবনে উন্নতি লাভ করতে পারছিলেন না এই বিষয়টি লক্ষ করে তার মাতা খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন এবং ভেবেছিলেন বিবাহ করিয়ে দিলে হয়তো রামানুজন কর্মজীবনের প্রতি ও মনোযোগ দিতে পারবে। তাই তিনি তার বান্ধবীর কন্যা জানাকি আম্বালকে এর সাথে বিবাহ ঠিক করেন। ১৯০৯ সালে রামানুজন এর বিবাহ সম্পন্ন হয়। এবং তার পরেই Srinivasa Ramanujan পরিবারের চাপে পড়ে গনিত এর উপর থেকে মন কিছুটা সড়িয়ে জীবিকা অর্জনের দীকে মনোযোগ প্রদান করেন। কিন্তু গনিতে অত্যাধিক মেধাবী হলেও তিনি বাকি সমস্ত বিষয়ে খুবই কাচা ছিলেন যেই কারনে Srinivasa Ramanujan নিজের ডিগ্রি পূরন করতে পারেন নি এবং ডিগ্রি না থাকাই কোনো কাজ পাওয়াও হয়ে উঠেছিলো ভীষন কঠিন তার কাছে। তাই তিনি মাদ্রাজ বন্দরে একটি চিঠি লেখেন কাজের জন্য। এরপরে রামানুজন মাদ্রাজ বন্দর ট্রাস্টের হিসাব রক্ষকের কার্যালয়ের কেরানি পদে যোগ দিয়েছিলেন। উক্ত পোর্ট ট্রাস্টে কাজ করার সময়ফাকে তিনি তার নোটবুকে বিভিন্ন ধরনের গনিত সূত্র লিখ বেড়াতেন একদিন তার মালিক তাকে দেখে নেয় গনিত সূত্র লিখতে এবং তারপর মালিক এর সাহায্যে বেশ কিছু উচ্চপদস্থ লোকের সাথে পরিচয় হয়েছিল তাঁর, তাদের মধ্যে অনেকেই রামানুজনের নোটবুক নিয়ে খুব উৎসাহ প্রকাশ করেছিলেন। এই নোটবইয়ের সূত্র ধরেই গণিত বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ হয় তাঁর। রামানুজনের প্রথম গবেষণা প্রবন্ধ Journal of the Mathematical Society ১৯১১ সালে পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়।এরপরে সংখ্যাতত্ত্বের উপর Some Properties of Bernoulli’s Numbers নামে Srinivasa Ramanujan এর প্রথম গবেষণালব্ধ দীর্ঘ প্রবন্ধ একই বছরে প্রকাশ করা হয়েছিল।

Life After Leaving India :

১৯১২ সালে একই পত্রিকায় রামানুজন এর দুটি প্রবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছিলো। বেশ কিছুকাল পর রামানুজনের কয়েকজন বন্ধু এবং হিতৈষীর চেষ্টায় মাদ্রাজ পোর্ট ট্রাস্টের কেরানির দায়িত্ব থেকে ১৯১৩ সালের মে মাসে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং তাঁর জন্য এক বিশেষ বৃত্তি মঞ্জুর করা হয়। এমন সময়েই তিনি আমন্ত্রণ পান কেমব্রিজ থেকে। প্রথমদিকে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও কেমব্রিজ এর আমন্ত্রণে বিদেশ যাওয়ার অল্পদিন পর তিনি ট্রিনিটি কলেজের ফেলোশিপ লাভ করেন। মাদ্রাজ থেকে প্রাপ্ত বৃত্তির পরিমাণ সেইসময়ে বার্ষিক ২৫০ পাউন্ড ছিল; ওই বৃত্তি থেকে ৫০ পাউন্ড পারিবারিক ব্যয়ের জন্য দেশে পাঠিয়ে দিতেন Srinivasa Ramanujan। এছাড়া ট্রিনিটি কলেজ থেকেও রামানুজন ভাতা বাবদ ৫০ পাউন্ড পেতেন। সেইখানে থাকাকালীন রামনুজন বেশকিছু গনিতিক সূত্র আবিষ্কার করেন। এবং রামানুজন এর দক্ষতা দেখে কেমব্রিজের প্রফেশর তাকে জিগ্গাসা করেন এই সূত্র গুল সে কিভাবে আবিষ্কার করছে। তিনি সেই প্রশ্নের উত্তরে বলেন দেবী নামাগুরি তার স্বপ্নে এসে এই গনিত গুলির সূত্র বলে যান।ভারতে কোনোরকম ডিগ্রি না থাকলেও কিন্তু ইংল্যান্ডে গিয়ে ওনার দক্ষতা দেখে ওনাকে কেমব্রিজ কলেজ এ বি এর ডিগ্রি দেওয়া হয়। তিনি একজন বাম্ভন পরিবারের ছেলে হওয়ায় ইংল্যান্ডে গিয়েও তিনি নিজের সংস্কৃতি ভোলেন নি এবং ইংল্যান্ডে সমস্ত খাবার আমিশ হওয়ায় তিনি প্রায় খাওয়া দাওয়া ত্যাগ করে বসে থাকেন এবং অত্যাধিক দুর্বল হয়ে পড়েন। অত্যাধিক দুর্বল হয়ে পড়ার জন্য তিনি কলেজের প্রোফেশর এর কাছে প্রস্তাব রাখেন যে যাতে ওনার স্তী কে ইংল্যান্ডে ডেকে আনা হয় যাতে তিনি ভারতীয় ভেজ খাবার খেয়ে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে প্রফেসর রা চিঠি লিখে ভারতে রামানুজান এর বাড়িতে পাঠায় কিন্তু সেই চিঠি তার স্ত্রী এর কাছে পৌছাতে দেয়নি তার মা। চিঠি এর উত্তরে তার মা লিখে পাঠান যে ‘তার বৌ কে পাঠানো যাবে না ইংল্যান্ডে’। সেই চিঠিটি দেখে রামানুজন আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং কিছুদিনের মধ্যে আরও একটি মহামারি রোগ টিউবার ক্লোসিস এ আকান্ত হন এবং তিনি মন থেকেও খুব ভেঙে পড়েন। এবং তারই সাথে Srinivasa Ramanujan এর পরবর্তী ডিগ্রি টিনিটিফেলোসিপ না প্রাপ্ত করতে পারায় তিনি আরও অত্যাধিক ভেঙে পড়ে।কিন্তু কিছুদিন পর ওনার দক্ষতা দেখে ওনাকে রয়্যাল সোসাইটি অফ ম্যাথামেটিক্স এর মেম্বার বানানো হয় তারই সাথে তিনি দ্বিতীয় ভারতীয় হিসাবে এই পদ এর সম্মান পান।

Before Death :

তার কিছু দিন পর তিনি রয়্যাল সোসাইটি তে প্রস্তাব জানান যে তিনি দেশে ফিরে যেতে চান এবং পরবর্তী কর্মজীবন ভারতবর্ষেই কাটাতে চান। এরপর ভারতে ফিরে আসার পরে তিনি আরও মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওনার স্ত্রী কে ওনার সংস্পর্শে আসতে দিতেন না ওনার মা এই নিয়ে বাড়িতেও চলতে থাকে না না অশান্তি যার কারনে নিজের বেঁচে থাকা মনোবল টিও হারাচ্ছিলেন তিনি। পরবর্তী কালে তিনি রোগে বেশি আক্রান্ত হওয়ার কারনে হসপিটালে ভর্তি হন। এবং সেই হসপিটাল থেকেই আবিষ্কার করেন এক বিখ্যাত সূত্র মগথিটা ফানসন। কিছু মাস পড়েই মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি দেহত্যাগ করেন। জীবনের এই ছোটো যাত্রাতেই আমাদের নানা ধরনের মূল্যবান সূত্র দিয়েছিলেন এই গনিত বিশেষজ্ঞ।

ব্লগটি কেমন লাগলো সেটা নিয়ে আপনার মতামত শেয়ার করুন আমাদের সাথে Contact us এর মাধ্যমে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here